জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বহুসাংস্কৃতিক সমাজের অংশগ্রহণ বাড়াতে ভাষা, আস্থা, সময়, নেতৃত্ব ও বাজেট—এই পাঁচ বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। এই গাইডে বাস্তব পরিকল্পনা, অংশীদার নির্বাচন ও সাধারণ ভুল এড়ানোর কাঠামো দেওয়া হলো।
অন্তর্ভুক্তিমূলক জলবায়ু উদ্যোগ সফল করতে শুধু তথ্য অনুবাদ যথেষ্ট নয়; আস্থা, সহজ প্রবেশাধিকার এবং সিদ্ধান্তে বাস্তব প্রভাব নিশ্চিত করতে হয়। বহুভাষিক সহায়তা, প্রশিক্ষিত ফ্যাসিলিটেটর বা কমিউনিটি অংশীদার তখনই যুক্তিযুক্ত, যখন নিজস্ব টিম ভাষা, সময় বা সম্পর্কের বাধা সামলাতে পারছে না।
পরিকল্পনার শুরুতে স্থানীয় ঝুঁকি, ভাষাগত প্রয়োজন এবং অংশগ্রহণের বাধা আলাদা করে বোঝা দরকার। এরপর কমিউনিটির নেতা ও সংগঠনের সঙ্গে ভূমিকা নির্ধারণ করলে যোগাযোগ বেশি গ্রহণযোগ্য হতে পারে। সীমিত বাজেটে ছোট পরিসরে পরীক্ষা করে কোন পদ্ধতিতে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে তা দেখা বাস্তবসম্মত। সেবাদাতা বাছাইয়ের সময় শুধু অনুবাদ নয়, সাংস্কৃতিক প্রাসঙ্গিকতা, গোপনীয়তা এবং ফলো-আপের সক্ষমতাও যাচাই করা উচিত।
এক নজরে
- ভাষা, আস্থা, প্রবেশগম্যতা, বাজেট ও ফলাফল—এই পাঁচ দিক একসঙ্গে দেখলে অংশগ্রহণ পরিকল্পনা বেশি বাস্তবসম্মত হয়।
- নিজস্ব কর্মী, কমিউনিটি অংশীদার ও বাহ্যিক সহায়তার মধ্যে পছন্দ নির্ভর করে ভাষা সক্ষমতা, সময়, সম্পর্ক এবং নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনের ওপর।
- মতামত নেওয়ার পর তা কোন সিদ্ধান্তে ব্যবহার হলো জানানো না হলে কমিউনিটির আস্থা কমে যেতে পারে।
| পদ্ধতি | কখন উপযোগী | মূল শক্তি | যে বিষয়টি যাচাই করবেন |
|---|---|---|---|
| নিজস্ব টিম | কর্মীদের স্থানীয় সম্পর্ক ও প্রয়োজনীয় ভাষা দক্ষতা থাকলে | পরিকল্পনার ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ | সময়, কর্মী-সক্ষমতা ও নিরপেক্ষভাবে মতামত নেওয়ার সুযোগ |
| কমিউনিটি অংশীদার | বিশ্বাসযোগ্য স্থানীয় সংগঠন বা নেতা সক্রিয় থাকলে | আস্থা ও পৌঁছানোর সুবিধা | ভূমিকা, প্রত্যাশা ও সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ স্পষ্ট কি না |
| বাহ্যিক সেবাদাতা | দোভাষী, বহুভাষিক যোগাযোগ, জরিপ টুল বা প্রশিক্ষিত ফ্যাসিলিটেটর দরকার হলে | বিশেষ দক্ষতা ও কাঠামোবদ্ধ সহায়তা | সাংস্কৃতিক উপযোগিতা, গোপনীয়তা ও কাজের পরিধি |
অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ কেন জলবায়ু উদ্যোগকে বাস্তবসম্মত করে
তিন লাইনে মূল কথা: ভাষা নয়, আস্থা ও সিদ্ধান্তে প্রভাবও জরুরি
জলবায়ু ঝুঁকি সবার জন্য এক রকম নাও হতে পারে। অঞ্চল, আবাসন, আয়, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া এবং ভাষাগত প্রবেশাধিকারের ভিন্নতার কারণে কারও জন্য তাপপ্রবাহ, বন্যা বা বায়ুদূষণের প্রভাব বেশি কঠিন হতে পারে। তাই অংশগ্রহণের লক্ষ্য শুধু প্রচার নয়; কার কথা শোনা হবে, কীভাবে শোনা হবে এবং সেই কথা কোথায় কাজে লাগবে—তা আগে থেকেই পরিষ্কার করা জরুরি।
কারা বাদ পড়ে যেতে পারেন এবং তার ফলে পরিকল্পনায় কী ঘাটতি থাকে
যাদের সভার সময় মেলে না, শিশু দেখাশোনার সুযোগ নেই, যাতায়াত কঠিন, ইন্টারনেট সীমিত বা মূল ভাষায় তথ্য বোঝা কঠিন—তারা সহজেই বাদ পড়ে যেতে পারেন। নতুন অভিবাসী, দীর্ঘদিনের বাসিন্দা, বয়স্ক ব্যক্তি, তরুণ বা ভিন্ন আবাসন পরিস্থিতিতে থাকা মানুষের অভিজ্ঞতাও এক নয়। ফলে শুধু সহজে পৌঁছানো যায় এমন কয়েকজনের মতামতের ওপর পরিকল্পনা দাঁড়ালে বাস্তব বাধা অদৃশ্য থেকে যেতে পারে।
অংশগ্রহণকে তথ্য গ্রহণ, মতামত এবং যৌথ সিদ্ধান্ত—এই তিন স্তরে দেখা
তথ্য গ্রহণ হলো ঝুঁকি ও উপলভ্য সহায়তার কথা জানানো। মতামত হলো মানুষের উদ্বেগ, অগ্রাধিকার ও বাধা শোনা। আর যৌথ সিদ্ধান্ত হলো কোন পদক্ষেপ আগে হবে, কীভাবে যোগাযোগ হবে বা কোন জায়গায় কার্যক্রম দরকার—এসব আলোচনায় কমিউনিটিকে বাস্তব ভূমিকা দেওয়া। প্রতিটি প্রকল্পে তিনটি স্তর সমানভাবে সম্ভব নাও হতে পারে, কিন্তু কোন স্তর পর্যন্ত অংশগ্রহণ হবে তা পরিষ্কার বললে প্রত্যাশা বাস্তব থাকে।
অংশগ্রহণের পদ্ধতি বাছাই: নিজস্ব টিম, কমিউনিটি অংশীদার নাকি বাহ্যিক সহায়তা
তুলনামূলক বিবেচনা: খরচের ধরন, সময়, আস্থা, ভাষা সক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ
নিজস্ব টিমে কাজ করলে দৈনন্দিন সমন্বয় সহজ হতে পারে, তবে কর্মীদের সময় ও ভাষা দক্ষতার সীমা থাকতে পারে। কমিউনিটি অংশীদার আস্থা তৈরিতে সহায়ক হতে পারেন, কিন্তু তাঁদের ওপর অতিরিক্ত কাজ চাপিয়ে দিলে সহযোগিতা দুর্বল হতে পারে। বাহ্যিক বহুভাষিক যোগাযোগসেবা, দোভাষী বা প্রকল্প বাস্তবায়ন সহায়তা বিশেষ প্রয়োজন মেটাতে পারে; তবে কাজের পরিধি, যোগাযোগের পদ্ধতি এবং তথ্য ব্যবহারের নিয়ম আগে পরিষ্কার করা দরকার।
বহুভাষিক যোগাযোগ, দোভাষী ও প্রশিক্ষণ সেবার প্রয়োজন নির্ধারণ
শুধু লিখিত অনুবাদ দরকার, নাকি সরাসরি আলোচনায় দোভাষীও প্রয়োজন—তা অংশগ্রহণের ধরন দেখে ঠিক করুন। যদি বিষয়টি জটিল হয়, প্রশ্নোত্তর দরকার হয় বা একাধিক ভাষাগোষ্ঠীর সঙ্গে কর্মশালা করতে হয়, তাহলে প্রশিক্ষিত ফ্যাসিলিটেটর বা দোভাষী সহায়তা বিবেচনা করা যায়। বার্তা স্থানীয় অভিজ্ঞতার সঙ্গে মানানসই কি না, শব্দচয়ন সম্মানজনক কি না এবং অংশগ্রহণকারীরা প্রশ্ন করতে স্বচ্ছন্দ কি না—এসবও দেখুন।
কম বাজেটে অগ্রাধিকার ঠিক করার ব্যবহারিক মানদণ্ড
সীমিত বাজেটে আগে এমন বাধা চিহ্নিত করুন যা সবচেয়ে বেশি মানুষকে অংশ নিতে দিচ্ছে না। যেমন সময়ের সমস্যা থাকলে ভিন্ন সময়ের ছোট সভা, যাতায়াত কঠিন হলে পরিচিত স্থানীয় স্থানে আয়োজন, ডিজিটাল বাধা থাকলে অফলাইন মতামত সংগ্রহ কার্যকর হতে পারে। সব সেবা একবারে কেনার বদলে ছোট পরিসরের পাইলট দিয়ে ভাষা সহায়তা, জরিপ টুল বা প্রশিক্ষণের প্রয়োজন যাচাই করা ভালো।
পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন: একটি অংশগ্রহণমূলক জলবায়ু কর্মসূচির ধাপ
স্থানীয় ঝুঁকি, ভাষা ও অংশগ্রহণ-প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা
শুরুতে কোন জলবায়ু ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হবে, কারা প্রভাবিত হতে পারেন এবং কোন ভাষা বা যোগাযোগ মাধ্যম দরকার হতে পারে তা নথিবদ্ধ করুন। কোনো নির্দিষ্ট ভাষাগোষ্ঠী বা ঝুঁকিকে অগ্রাধিকার দেওয়া স্থানীয় তথ্য ছাড়া ঠিক করা উচিত নয়। ছোট আলাপ, বিদ্যমান কমিউনিটি যোগাযোগ বা প্রাথমিক জরিপ থেকে বাধাগুলোর ধারণা নেওয়া যেতে পারে।
কমিউনিটি নেতা ও সংগঠনের সঙ্গে লক্ষ্য এবং ভূমিকা নির্ধারণ
ধর্মীয় বা সামাজিক সংগঠন, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক এবং কমিউনিটির ভেতরের নেতারা তথ্য পৌঁছাতে সহায়ক হতে পারেন। তবে তাঁদের শুধু প্রচারক হিসেবে ব্যবহার না করে পরিকল্পনার সীমা, সিদ্ধান্তের সুযোগ এবং প্রত্যাশিত সময় নিয়ে খোলামেলা কথা বলুন। কে আমন্ত্রণ জানাবেন, কে আলোচনা পরিচালনা করবেন, কে মতামত সংকলন করবেন এবং কে উত্তর দেবেন—এগুলো নির্ধারিত থাকলে বিভ্রান্তি কমে।
সভা, কর্মশালা, জরিপ ও মাঠভিত্তিক কার্যক্রমের সমন্বয়
একটি মাত্র বড় সভার ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন পদ্ধতি মিলিয়ে ব্যবহার করা যায়। ছোট আলোচনা সভা গভীর অভিজ্ঞতা বোঝাতে পারে, জরিপ তুলনামূলক মতামত ধরতে পারে, আর মাঠভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তব বাধা দেখতে সাহায্য করতে পারে। অংশগ্রহণের জন্য শিশু দেখাশোনা, যাতায়াত, সময়সূচি ও ডিজিটাল প্রবেশাধিকার বিবেচনায় রাখুন।
মতামত কীভাবে সিদ্ধান্তে ব্যবহৃত হলো—তা জানানো
পরামর্শ নেওয়ার পর সংক্ষিপ্তভাবে জানানো উচিত কোন মতামত গ্রহণ করা হলো, কোনটি এখন করা সম্ভব নয় এবং কেন। এতে অংশগ্রহণকারীরা বুঝতে পারেন যে তাঁদের সময়ের মূল্য দেওয়া হয়েছে। সব দাবি পূরণ করা সম্ভব নয়, কিন্তু সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা ও ফলো-আপ আস্থা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
আস্থা নষ্ট করে এমন ভুল ও ঝুঁকি এড়ানোর উপায়
শুধু অনুবাদ দিয়ে সাংস্কৃতিক প্রাসঙ্গিকতা ধরে নেওয়া
একই ভাষায় অনুবাদ করলেই বার্তা বোধগম্য বা গ্রহণযোগ্য হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। উদাহরণ, ভাষার ভঙ্গি, প্রশ্ন করার পরিবেশ এবং তথ্যদাতার প্রতি আস্থা বার্তার অর্থ বদলে দিতে পারে। অনুবাদিত উপকরণ প্রকাশের আগে সম্ভাব্য ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে বোঝাপড়ার প্রতিক্রিয়া নেওয়া সহায়ক হতে পারে।
প্রতীকী প্রতিনিধিত্ব ও একই গোষ্ঠীর ভেতরের বৈচিত্র্য উপেক্ষা

একজন প্রতিনিধির মতামত পুরো কমিউনিটির মতামত নয়। একই ভাষা বা পরিচয়ের মানুষের মধ্যেও বয়স, কাজের সময়, আবাসন, ডিজিটাল দক্ষতা ও জলবায়ু ঝুঁকির অভিজ্ঞতা ভিন্ন হতে পারে। তাই অংশগ্রহণকারীর তালিকায় বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করুন এবং কারা অনুপস্থিত থাকছেন তা খেয়াল করুন।
ডেটা সংগ্রহে গোপনীয়তা, সম্মতি ও নিরাপদ যোগাযোগের বিষয়গুলো
জরিপ প্ল্যাটফর্ম বা নিবন্ধন ফর্ম ব্যবহার করলে কী তথ্য নেওয়া হচ্ছে, কেন নেওয়া হচ্ছে এবং কারা তা দেখতে পারবেন—এসব সহজ ভাষায় জানানো প্রয়োজন। সংবেদনশীল তথ্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে চাইবেন না। বাহ্যিক জরিপ টুল বা প্রকল্প-সহায়তা সেবা নিলে তাদের তথ্য ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি যাচাই করা নিরাপদ।
প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফলাফল বা ফলো-আপ না জানানো
“আপনাদের মতামত অনুযায়ী কাজ হবে” ধরনের অস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ঝুঁকিপূর্ণ। বরং কোন সিদ্ধান্তে মতামত প্রভাব ফেলতে পারে, কোন বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে নেই এবং কখন আপডেট দেওয়া হবে তা বলুন। বাস্তবসম্মত প্রত্যাশাই দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ভিত্তি।
পরিস্থিতিভেদে অংশগ্রহণ কৌশল
বন্যা, তাপপ্রবাহ বা বায়ুদূষণ ঝুঁকিতে বার্তা ও অগ্রাধিকার বদলানো
সব ঝুঁকির জন্য একই বার্তা যথেষ্ট নয়। বন্যা নিয়ে আলোচনায় আবাসন, যাতায়াত ও জরুরি যোগাযোগের প্রশ্ন বেশি আসতে পারে। তাপপ্রবাহে ঘর, কর্মক্ষেত্র, স্বাস্থ্যসেবায় পৌঁছানো বা বিশ্রামের সুযোগ নিয়ে উদ্বেগ থাকতে পারে। বায়ুদূষণের ক্ষেত্রে দৈনন্দিন যাতায়াত ও ঘরের পরিবেশ নিয়ে মতামত দরকার হতে পারে। স্থানীয় বাস্তবতা যাচাই না করে অগ্রাধিকার ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
নতুন অভিবাসী, দীর্ঘদিনের বাসিন্দা ও তরুণদের জন্য ভিন্ন যোগাযোগ পদ্ধতি
নতুন অভিবাসীদের জন্য পরিচিত সংগঠনের মাধ্যমে মৌলিক তথ্য ও প্রশ্ন করার নিরাপদ সুযোগ দরকার হতে পারে। দীর্ঘদিনের বাসিন্দারা স্থানীয় পরিবর্তন ও পূর্ব অভিজ্ঞতার তথ্য দিতে পারেন। তরুণদের ক্ষেত্রে স্কুলভিত্তিক আলোচনা, সংক্ষিপ্ত ডিজিটাল মতামত বা অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম কার্যকর হতে পারে। একটি পদ্ধতি সবার জন্য সমান ফল দেবে—এমন ধারণা না রাখাই ভালো।
স্কুল, কর্মক্ষেত্র, আবাসন কমিটি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা
এসব জায়গা কমিউনিটির নিয়মিত যোগাযোগের কেন্দ্র হতে পারে। স্কুল পরিবারগুলোর কাছে তথ্য পৌঁছাতে সাহায্য করতে পারে, কর্মক্ষেত্র সময়সূচির বাস্তব বাধা বোঝাতে পারে, আবাসন কমিটি স্থানভিত্তিক সমস্যা তুলে ধরতে পারে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আস্থাভিত্তিক যোগাযোগে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা তাদের সম্মতি, সক্ষমতা ও স্থানীয় সম্পর্কের ওপর নির্ভর করবে।
নির্বাচন মানদণ্ড ও তুলনামূলক সারাংশ
সেবাদাতা বা অংশীদার বাছাইয়ের আগে এই বিষয়গুলো পরীক্ষা করুন:
- লক্ষ্যভিত্তিক ভাষা ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের সক্ষমতা আছে কি না।
- দোভাষী, ফ্যাসিলিটেটর বা প্রশিক্ষকের ভূমিকা লিখিতভাবে পরিষ্কার কি না।
- অংশগ্রহণকারীর তথ্য, সম্মতি ও গোপনীয়তা কীভাবে সামলানো হবে।
- জরিপ টুল বা যোগাযোগসেবা ডিজিটাল ও অফলাইন—দুই ধরনের প্রবেশাধিকার বিবেচনা করে কি না।
- মতামত সংগ্রহের পর ফল জানানো ও ফলো-আপের পদ্ধতি আছে কি না।
- কাজের পরিধি, সময়, দায়িত্ব এবং পরিবর্তনের শর্ত বোঝা যাচ্ছে কি না।
বাজেট অনুমোদনের আগে জিজ্ঞেস করুন: কোন বাধা কমাতে এই খরচ করা হচ্ছে, কোন ফল দেখা হবে, কারা দায়িত্বে থাকবেন এবং ছোট পরিসরে পরীক্ষা করা সম্ভব কি না। বহুভাষিক যোগাযোগসেবা, কমিউনিটি জরিপ প্ল্যাটফর্ম, জলবায়ু প্রশিক্ষণ বা প্রকল্প বাস্তবায়ন সহায়তার বিস্তারিত শর্ত ও সক্ষমতা সংশ্লিষ্ট সেবাদাতার তথ্যপৃষ্ঠায় যাচাই করুন।
শেষ কথা
বহুসাংস্কৃতিক সমাজকে জলবায়ু উদ্যোগে যুক্ত করা মানে শুধু বেশি মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছানো নয়। এর অর্থ হলো বাস্তব বাধা বোঝা, সম্পর্ককে সম্মান করা এবং মতামতকে সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত করা। নিজস্ব টিম, কমিউনিটি অংশীদার ও বাহ্যিক সহায়তার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য প্রকল্পভেদে বদলাবে। ছোট পরীক্ষা, পরিষ্কার যোগাযোগ এবং নিয়মিত ফলো-আপ এই কাজকে বেশি বিশ্বাসযোগ্য করতে পারে।
জেনে রাখলে কাজে লাগবে
১. সভার সময় ও স্থান অংশগ্রহণের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
২. দোভাষী থাকলেও প্রশ্ন করার পরিবেশ নিরাপদ না হলে মানুষ কথা বলতে নাও পারেন।
৩. কমিউনিটি নেতার ভূমিকা সহায়ক, কিন্তু তাঁকে পুরো গোষ্ঠীর একমাত্র কণ্ঠ ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
৪. জরিপের ফলের সঙ্গে খোলা আলোচনার অভিজ্ঞতা মিলিয়ে দেখলে পরিকল্পনা আরও সমৃদ্ধ হতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংক্ষেপে
কোন ভাষাগোষ্ঠী, এলাকা বা জলবায়ু ঝুঁকি আগে গুরুত্ব পাবে তা স্থানীয় তথ্য ছাড়া নির্ধারণ করা যায় না। অনুবাদ, দোভাষী, প্রশিক্ষণ বা প্রকল্প পরিচালনার খরচও কাজের পরিধি ও চুক্তির ধরনভেদে বদলাতে পারে। কোনো একক অংশগ্রহণ পদ্ধতি সব কমিউনিটিতে সমান কার্যকর হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। স্থানীয় নীতি, তহবিল বা আইনগত প্রয়োজন থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়ম ও উপযুক্ত পরামর্শ আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন ১. বহুসাংস্কৃতিক কমিউনিটির জলবায়ু কর্মসূচিতে দোভাষী বা বহুভাষিক সেবা কখন নেওয়া উচিত?
উত্তর ১. যখন অংশগ্রহণকারীদের প্রয়োজনীয় ভাষায় আলোচনা, প্রশ্নোত্তর বা তথ্য বোঝার সুযোগ নেই, তখন এই সহায়তা বিবেচনা করা যায়। জটিল কর্মশালা, একাধিক ভাষাগোষ্ঠী বা আস্থাসংবেদনশীল আলোচনায় প্রশিক্ষিত দোভাষী বা ফ্যাসিলিটেটর বিশেষভাবে সহায়ক হতে পারেন।
প্রশ্ন ২. সীমিত বাজেটে কমিউনিটি অংশগ্রহণ বাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর প্রথম পদক্ষেপ কী?
উত্তর ২. আগে সবচেয়ে বড় অংশগ্রহণ-প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করুন। সময়, যাতায়াত, ডিজিটাল প্রবেশাধিকার, শিশু দেখাশোনা বা ভাষা—কোন বাধাটি বেশি প্রভাব ফেলছে তা বুঝে ছোট পরিসরে সমাধান পরীক্ষা করা বাস্তবসম্মত প্রথম পদক্ষেপ।
প্রশ্ন ৩. বাহ্যিক ফ্যাসিলিটেটর বা প্রশিক্ষণসেবা বাছাইয়ের সময় কোন বিষয়গুলো যাচাই করা নিরাপদ?
উত্তর ৩. ভাষা ও সাংস্কৃতিক প্রাসঙ্গিকতার সক্ষমতা, কাজের পরিধি, তথ্যের গোপনীয়তা, অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের পদ্ধতি এবং ফলো-আপের পরিকল্পনা যাচাই করুন। পাশাপাশি স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে সেটি কীভাবে প্রকল্পে প্রয়োগ করবেন, তা স্পষ্টভাবে জানতে চান।





